ফিনান্সিয়াল লিটেরাসি (অর্থনৈতিক স্বাক্ষরতা) :

বেশির ভাগ মানুষ বুঝতে ব্যর্থ হয় যে জীবনে কত টাকা আয় করলাম এটা আসল কথা না, বরং কত টাকা জমাতে (সেভিংস) পারলাম সেটাই আসল বেপার। আমরা প্রায়ই শুনতে পারি ধনী, মিলিওনিয়ার খেলোয়াড়, তারকাদের কথা, যারা কম  বয়সে অনেক টাকা উপার্জন করলেও কর্পদকশুন্য হয়ে শেষ জীবন অতিক্রম করছেন অথবা করেছেন। সবার-ই একি প্রশ্ন থাকে- কিভাবে আমরা ধনী হতে পারি এবং তাও অনেক তাড়াতাড়ি। 😀 এটার এক্টাই উত্তর- ফিনান্সিয়াল লিটেরাসি আর বাংলায় যাকে বলা যেতে পারে অর্থনৈতিক স্বাক্ষরতা অর্জন করা।

যদি আমরা সুউচ্চ-লম্বা বিল্ডিং বানাতে চাই, তাহলে আমাদের সবার আগে যা লাগবে তা হল একটা খুব ভাল এবং গভীর ফাউন্ডেশন। আর যদি আমরা একটা টিনের চালা বানাতে চাই তাহলে আসলে ছয় ইঞ্চির স্লাব হলেই যথেষ্ট। বেশির ভাগ মানুষ-ই দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে ছয় ইঞ্চি স্লাব এ এম্পায়ার স্টেট/টুইন টাওয়ার বিল্ডিং বানানোর চেষ্টায় জীবন পার করে।

এর পিছনে আমাদের স্কুল সিস্টেম এর দায়টাও কম না। আদিম যুগে হয়ত ফাউন্ডেশন ছাড়াই বাসা বানানো যেত, কিন্তু এযুগেও স্কুল-কলেজ আমাদের সেই ফাউন্ডেশন ছাড়াই টুইন টাওয়ার বানানোর শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে তারা তখন হাতে কুঠার নিয়ে টুইন টাওয়ার বানানোর কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। একদিন তারা নিজদের লোন-ধার এ জর্জরিত অবস্থায় দেখতে পায়- চোখে তখনও টুইন টাওয়ার এর স্বপ্নের অপ্রাপ্তি। তারা তখন চায় তাড়াতাড়ি ধনী হতে- যেকোন উপায়ে সেটা সৎ হোক আর অসৎ। টুইন টাওয়ার এর কন্সট্রাকশন শুরু হয়, কিন্তু টুইন টাওয়ার এর পরিবর্তে সেটা হেলানো তালগাছ ছাড়া আর কিছু হয় না।

অথচ স্কুল-কলেজ এর দায়িত্ব ছিলো এই ফাউন্ডেশন টা তৈরি করে দেয়া। একাউন্টিং সম্ভবত অন্যতম একটা বোরিং আর কনফিউজিং একটা সাবজেক্ট। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাক্ষরতা, ফাউন্ডেশনের জন্য এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুব কম-ই আছে যা আমাদের দীর্ঘমেয়াদে সচ্ছলতা আনতে সাহায্য করে। আর চিন্তা করা যায় এই বিষয়টা আমাদের স্কুল-কলেজ এ কতটা হেয় ভাবে শেখানো হয়। কেউ যদি কমার্স/বাণিজ্য নেয় আমরা ধরেই নেই যে তার মেধা কম। অথচ এই বিষয়টি আমাদের শুধু বাণিজ্য শাখা না, সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। বিতর্কিত মনে হলেও আমি বিজ্ঞান, বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি, ধর্ম এর থেকে  বাস্তবিক জীবনে একাউন্টিং এর গুরুত্ব বেশি না হলেও কম বলে মনে করি না।

এখন এই বিষয়ে হয়ত ছোট্ট একটা হাতে-খড়ি দেয়ার চেষ্টা করবো পরবর্তী অংশগুলোতে। এখন পর্যন্ত আমার কথা গুলো ভাল লেগে থাকলে আশা করি পরেও হতাশ হতে হবে না।

Robert Kiyosaki এর Rich Dad Poor Dad অবলম্বনে।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s