ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সঃ ফিনান্সিয়াল ইন্টেল্লিজেন্স জিনিস টা নিয়ে লেখার অনেক দিন থেকেই ইচ্ছে ছিল আমার। কথা আসতে পারে একজন টেকনিক্যাল মানুষ হয়ে ফিনান্স রিলেটেড কতটুকু নলেজ থাকতে পারে আমার। তার শুরুতেই বলে নেই যে আমি যা বলছি এখানে সব-ই আমার নিজের পড়াশুনা থেকে প্রাপ্ত। যতটুকু বুঝতে পেরেছি ততটুকুই আশা করি মানুষের উপকারে আসবে।

ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন একটা জিনিস আমি মনে করি প্রাইমারী স্কুল পার হওয়ার পরেই এই সম্পরকে জানা দরকারি। ওই সময়টাতে একজন এর যে ফাউন্ডেশন টা তৈরি হয় দেখা যায় যে পরবর্তী জীবনে সেটার ভূমিকাই থাকে সবচে বেশি। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক ভাবে আমাদের কে এই জ্ঞ্যান টা কেউ দেয় না বা সামান্যতম গাইডেন্স ও পাওয়া যায় না। এর ফলে যা হওয়ার তাই হয়। বেশির ভাগ যুবক বেকার হয়ে নিজেদের জীবন সম্পরকে হতাশ হয়ে mediocrity কেই মেনে নিতে বাধ্য হয়, নাহলে বাবা-মার সম্পত্তি বিক্রয় করে ঘুষ এর টাকায় সরকারি চাকুরির পিছনে ছুটে।

ফিনান্সিয়াল ইন্টেইলিজেন্স- বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় অর্থনৈতিক বুদ্ধিমত্তা। আরও সহজ করলে টাকা পয়সা সম্পরকে আপনার ধারনা। আমাদের আশে পাশের সবার একটা খুব কমন সমস্যা হলো টাকার সাথে আমাদের সম্পর্ক খারাপ। আমরা নিজদের দুই ধরনের ক্যাটাগরি তে ফেলতে পারি-

১) যারা টাকা কে জীবনের সবকিছু মনে করেন

২) যারা টাকা কে কিছুই মনে করেন না। (কিছুটা এই রকম- টাকা তো আসবে যাবেই। আমি কোন দিন টাকা কে দাম দেই না)

এই দুই ধরনের চিন্তাতেই সমস্যা আছে। টাকা যেমন আপনার জীবনের সবকিছু না। তেমনি এটার ভূমিকা আপনার জীবনে অনেক বড়। এই দুইটা এক্সট্রিম পয়েন্ট কে যারা ব্যালান্স করতে পারেন তাদের কেই আমরা বলতে পারি ফিনান্সিয়ালি ইন্টেলিজেন্ট।

আমাদের আরও একটা বড় সমস্যা হল আমরা টাকা নিয়ে আলোচনা করি না। আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত বেপার কাজ করে যেন এই বেপার টা নিয়ে কথা বললে অন্যরা আমার থেকে বেশি ধনী হয়ে যাবে। 😛 মানে কি দাঁড়ালো যে আমরা নিজেদের কে নিয়ে যত না ব্যস্ত, তার থেকে অন্যের ধনী হওয়া নিয়ে আমাদের ভয় বেশি। 😀

যাই হোক, এই টপিক নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে আমাদের আসলে নিজেদের কে প্রশ্ন করা উচিৎ, আমরা কি নিজেদের ফিনান্সিয়াল অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট? যদি না হই তাহলে আমরা কি আমাদের সন্তুষ্টি লেভেল বাড়াতে ইচ্ছুক? এখানে কিন্তু আমি বলেছি সন্তুষ্টি লেভেল নিয়ে। অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে না। একজন এর কাছে অর্থনৈতিক অবস্থা যেটা সন্তুস্টজনক অন্যজন এর কাছে সেটা নাও হতে পারে। এবং এটা পারফেক্টলি ওকে। সবার সিচুয়েশন, চাহিদা কখনও এক হবে না। এই বেপারটা বুঝতে পারাই হচ্ছে ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রথম ধাপ।

তো এই অবস্থায় আমরা নিজদের প্রশ্ন করে নেই আগে যে আমরা কি চাই। কেন চাই। এবং সেটা স্পষ্ট করে লিখে ফেলি। কি পেলে আমরা মনে করি আমরা ফিনান্সিয়াল হ্যাপিনেস পাব। সেটা কোন বস্তু হতে পারে, কোন পদবী হতে পারে অথবা কোন অর্জন হতে পারে। কথায় আছে নিজেকে জানুন আগে। আমরা যদি এই পর্যন্ত নিজেদের ইন্টারেস্ট ধরে রাখতে পারি। তাহলে নেক্সট স্টেপ টা আমাদের জন্য নেয়া সুবিধাজনক হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s